আজ ৪ই এপ্রিল ২০২৬ শাহবাগে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) গোষ্ঠীর কথিত অপতৎপরতা এবং সকালের সময় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক বোরহানউদ্দিন ইয়াসিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বাদ মাগরিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদের সদস্য মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শাহবাগে এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠী অসুস্থ অপসংস্কৃতি ও উস্কানিমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সুস্থ সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী।” তিনি প্রশাসনের প্রতি দুই দফা দাবি জানিয়ে বলেন—
১. দেশের কোথাও যেন এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠী তাদের অপসংস্কৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. সকালের সময় পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক বোরহানউদ্দিন ইয়াসিনের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতা শুধু ইসলামের নয়, সমাজের জন্যও হুমকি। তারা একটি সুস্থ সমাজকে অসামাজিক করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা মুসলিম ও সচেতন নাগরিক হিসেবে এসব কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রমোট হতে দেব না।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন যদি এই সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমান মন্তব্য করেন, “বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রভাবে দেশে এমন অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক।” তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এদেশের সচেতন সমাজ এ ধরনের অপতৎপরতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ সোহরাব বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “প্রকৃতির বিরুদ্ধে যৌনাচারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখা যায় না।” তিনি প্রশাসনের প্রতি ট্রান্সজেন্ডার ও ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝার এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদের যথাযথ সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ঢাবি শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শাহবাগ এলাকায় প্রতি শুক্রবার মাগরিব থেকে রাত পর্যন্ত অশ্লীল ও আপত্তিকর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়। মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিবাদ ও দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন জানান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ মুশতাক আহমদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আব্দুল আহাদ, তথ্য যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

