গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করলে ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসবে: জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি

আজ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে “জুলাই গণভোটের জনরায় ও সংবিধান সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়ন” এ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়; এটি সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের রূপরেখা। গণভোটে ৬৮.০৬% মানুষ যা চেয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে এবং সংবিধান সংস্কার এড়াচ্ছে। তাদের ৩১ দফার প্রতিশ্রুতির প্রথম দফায় সংবিধান সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা মানছে না। জনগণ যা চেয়েছে, তা উপেক্ষা করলে নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন ব্যর্থ হবে।”
তিনি সব ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, “দল-মত নির্বিশেষে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হোন। যারা সনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তারা জানুক ছাত্রসমাজ কখনো মাথা নত করবে না। জুলাই আমাদের শক্তি, সাহস ও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতীক।”
এছাড়াও সমাবেশে মুফতি আইনুল হক কাসেমীর অবিলম্বে মুক্তির দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করে ১০০ দিনেরও অধিক সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে, যা ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রথম আলো অফিস ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই; বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে। তাই অবিলম্বে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে মুফতি আইনুল হক কাসেমীর নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে আরো বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য হাবীবুল্লাহ মিসবাহ এবং দিদারুল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় তথ্য- যোগাযোগ ও প্রচার সম্পাদক সাইফুল্লাহ, কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক আহমদ মুরসালিন,ঢাবি শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আহমাদুল্লাহ,ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলামসহ ঢাকা মহানগরী ও বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, যা জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বিজয়নগর পানির ট্যাংকি হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের সময় ছাত্র-জনতা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে স্লোগান দেয়।
বার্তা প্রেরক
কামরুল ইসলাম সাঈদ
প্রচার সম্পাদক ঢাকা মহানগর পশ্চিম
ও মিডিয়া সমন্বয়ক
01955240477

শেয়ার করুন

আরো পড়ুন

যোগদিন আমাদের সাথে

ইসলামের মূল তিন কাজ- তা’লীমে দ্বীন (দ্বীনের শিক্ষা), তাবলীগে দ্বীন (দ্বীনের দাওয়াত) ও তাগলীবে দ্বীন (দ্বীনের বিজয়) এর সমন্বয়ে ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য পাঁচ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১. দাওয়াত, ২. সংগঠন, ৩. প্রশিক্ষণ, ৪. সমাজকল্যাণ, ৫. আন্দোলন। আমি বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঘোষিত কর্মসূচির সাথে একাত্মতা পোষণ করছি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে এ সংগঠনে যোগদান করছি।

Scroll to Top